“গুণবর্তী রমনী, শিক্ষানুরাগি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীঃ  দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি স্মরণ”

ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ৬:২২ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২৭ বার পঠিত

মুজিবুর রহমান মুজিব॥ মানুষের জন্মও মৃত্যুর মধ্যবর্তী অন্তবর্তী কালীন সময়ের নাম জীবন। মানুষের খন্ড কালীন এই মানব জীবন খুবই ক্ষনস্থায়ী। মানুষের মৃত্যু প্রসঙ্গেঁ আমাদের মহান স্রষ্টাও প্রতি পালক দু’জাহানের খালিক-মালিক আল্লাহ পাক আসমানী কিতাব আল কোরআনে ঘোষণা করেন “কুল্লুন নাফসীন জ্যায়িকাতুল মউত।” ক্ষনস্থায়ী দুনিয়া প্রসঙ্গেঁ সর্বকালের সেরা কবি ও দার্শনিক শেখ সাদী বলেন-

“দুনিয়া, এহিত হ্যায়

এক মুসাফির খানা,

যানে হগা জরুর,

কোয়ী আগে, কোয়ী পিছে।”

এই ক্ষনস্থায়ী মানবজীবনে কিছু কিছু আদম সন্তান এবং উম্মতে মোহাম্মদী (স:) সমাজ সভ্যতার ক্রমবিকাশ, ক্রম বিবর্তন এবং মানব কল্যানে এমন কিছু অবদান রেখে যান যা যুগ যুগ ধরে মানবজাতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার সাথে স্মরণ করেন। শিক্ষানুরাগীও দানবীর রাগীব আলীর সহ ধর্মিনী গুণবতীরমনী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এমনি একজন ব্যতিক্রমি মহিলা। গুণবর্তী রমনী। আদর্শ  স্ত্রী। মমতাময়ী মা। দুই হাজার ছয় সালের বারোই ডিসেম্বর সকালে হৃদরোগে আক্তান্ত হয়ে এই মমতাময়ী মায়ের মহাপ্রয়ান ঘটে। স্বামী দানবীর ডক্টর সৈয়দ রাগীব আলীর সঙ্গেঁ সিলেটস্থ মালনীছড়া চা বাগানের মালিক বাংলোতে অবস্থান করছিলেন মালনীছড়া চা বাগানের মালকিন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। লন্ডন, ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশানে আলীশান বাসভবন এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্য থাকলেও পীরানে পীর বীর শাহ্ জালালের স্মৃতি বিজড়িত জন্মও পিতৃভূমি সিলেটেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন বেগম রাবেয়া। সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের ইত্তেফাক, দৈনিক সিলেটের ডাকের নিয়মিত প্রকাশনায় দেখভাল করতেন তিনি। কোন প্রাপ্তি যোগের প্রত্যাশা নয়, মায়ের মমতা নিয়ে বেগম রাবেয়া এ যুগের বেগম রোকেয়া হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারপার্সন হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করতেন। স্বামী প্রিয়জীবন সঙ্গীঁ কর্মবীর ডক্টর রাগীব আলীকে সকল কাজে প্রেরণা ও সহায়তা দিতেন। পিতৃকুলের দিক দিয়ে এক অভিজাত খান্দানী পরিবারের কৃতি কন্যা তিনি। আম্বর খানা পাক্কা বাড়ি নিবাসী বিশিষ্ট ব্যক্তি আরফান আলী চৌধুরীর কৃতি কন্যা হিসাবে তাঁর কোন অহংকার, অহংবোধ, শানডিমাক ছিল না। মাঝারি উচ্চতায় উজ্জল শ্যাম চেহারার গোলবাটা মুখের বেগম রাবেয়ার মুখে এক চিলতে মায়াবী মিষ্টি হাসি থাকত। বড় ঘরের কন্যা এবং বড় লোকের বধু হিসাবে দামী শাড়ী বাহারি বেহিসাবে গয়না এবং উগ্র মেক আপে থাকতেন না নিরাভিরন সহজ সরল সাদা মনের মানুষ বেগম রাবেয়া। মেক আপ গেট আপ বিহীন সাধারণ পোষাকে এক অসাধারন মহিলা ছিলেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তাঁর আদব, তমিজ, লেহাজ, পর্দা পুসিদা, মায়া-মমতা যেকোন আধুনিক স্ত্রীর জন্য অনুসরণীয়। এ যুগের বেগম রোকেয়া বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন আদর্শ স্ত্রী, মমতাময়ী মা, ¯েœহময়ী জননী, প্রেমময়ী ভগিনী, গুণবতী রমনী। শ্রেণী বিভক্ত এই ভোগ বাদী সমাজ ব্যবস্থায়, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতার ক্রমোবনতি এবং ভ্রষ্টাচারের জোয়ারের মাঝে বেগম ররাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন ব্যতিক্রমী চরিত্রের ব্যতিক্রমী নারী। দুই হাজার ছয় সালের বারোই ডিসেম্বর ভোর বেলা মধ্য বয়সে অসময়ে অবেলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে তিনি ও তাঁর স্বামী প্রতিষ্ঠিত জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা, চিকিৎসা সেবা উপেক্ষা করে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী চীর বিদায় নেন। এই মায়াময় পৃথিবী থেকে, চীরতরে চলে যান চীর দিনের দেশে না ফেরার দেশে। বারোই ডিসেম্বরের ভোরের সূর্দ্যেদয় এর সাথে সাথে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর জীবন সূর্য্য চির অস্থমিত হল। চির তরে নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। বিশালও বিপুল বিত্ত বৈভব এর মালিক দানবীর আলহাজ্ব রাগিব আলীর রঙ্গীঁন পৃথিবী নিমিষেই অন্ধকার হয়ে গেল। সুখ-দুঃখ আনন্দ বেদনার প্রিয় সাথী জীবন সঙ্গীঁনী বেগম রাবেয়া খাতুনকে হঠাৎ করে হারিয়ে নির্বাক নিস্তব্দ হয়ে গেলেন। বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ শুনে আমি নিজেও মনোঃ কষ্ট পেলাম। মর্মাহত হলাম। চেম্বার পরিচালক ¯েœহভাজন খায়রুজ্জামান শ্যামল এর খালা হিসাবে মরহুমার সঙ্গেঁ আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক। তিনি আমাকে ¯েœহ মমতার চোখে দেখতেন। মালনী ছড়ার মালিক বাংলায় গেলে পরম মমতায় মাতৃ ¯েœহে আদর আপ্যায়ন করতেন। বাসা থেকে রাগিব নগর ছুটলাম মরহুমার নামাজে জানাজায় যোগ দিতে। ঢাকা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল থেকে বিভিন্ন কর্ম পেশার বিপুল সংখ্যক নাগরিক গন্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব মরহুমার নামাজে জানাজা শেষে রাগীব নগরের পারিবারিক গোরস্থানে চীরশয়ানে শায়িত করা হয়। মরহুমার কবরের মাটি পুরাতন হয়ে গেছে। গজিয়েছে অনেক ঘাস। ফুটেছে অনেক নাম না জানা ঘাস ফুল। তাঁর কবরের মাটি পুরাতন হয়ে গেলে ও মহিয়সী রমনী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী আছেন আমাদের অন্তরে অনুভবে। এযুগের বেগম রোকেয়া রাবেয়া খাতুন চৌধুরী তার মানব প্রেম, শিক্ষানুরাগ, সৌজন্যবোধ ও শিষ্টাচারে শুধু কাগজে, পাথরে নয় কবি লিখেছেন গায়ক গেয়েছেন “হৃদয়ে লিখ নাম সে নাম থেকে যাবে”। বেগম রোকেয়া খাতুন চৌধুরী মানুষের হৃদয়েই তার নাম লিখিয়েছেন এ নাম থেকে যাবে অনাদি অনন্তকাল। বারোই ডিসেম্বর মরহুমা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। অত্যন্তভার গম্ভীর ভাবে। রাগীব নগর পারিবারিক গোরস্থানে জিয়ারত-মিলাদ-দোয়া-কাঙ্গালি ভোজ হয়। ফুলে ফুলে মালায় মালায় ভরে যায় মরহুমার গবর গাহ। ঢল নামে শোকাহত মানুষের। কায়মনো বাক্যে কামনা করা হয় মরহুমার রুহের মাগফিরাত। দৈনিক সিলেটের ডাকের উদ্যোগে বারোই ডিসেম্বর বিশেষ সংখ্যা ক্রোড়পত্র বের হবে।

দেশও বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট লেখক গবেষক- কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিকগণ বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কর্ম ও জীবন দর্শন এর উপর মূল্যবান নিবন্ধ লিখবেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করবেন।

বারোই ডিসেম্বর আঠারোতে মরহুমা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর দ্বাদশ মৃত্যু বার্ষিকীতে তার উজ্জল স্মৃতির প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করছি, মহান মালিক তাঁর বেহেশ্ত নসীব করুন এই মোনাজাত করছি।

 [মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র এডভোকেট হাইকোর্ট, জজ কোর্ট, সাবেক সভাপতি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব ]

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”