জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্য বাহী ফল লেবইর বিলুপ্তের পথে

নভেম্বর ২০, ২০১৭, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২৭৮ বার পঠিত

শামীম আহমদ॥ জুড়ী উপজেলায় ঐতিহ্য বাহী ফল অরবরই “অড়বরই” বা অরবড়ই যাহা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় লেবই বা লেবইর নামে পরিচিত ফলটি এখন বিলুপ্তের পথে। জুড়ী উপজেলায় এক সময় প্রতিটি এলাকায় লেবইর (অরবরই) পাওয়া যেতো এখন যদিও পশ্চিম জুড়ী, জায়ফরনগর, পূর্ব জুড়ী, গোয়ালবাড়ী, সাগরনাল ও ফুলতলা ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় পাওয়া যায়। একসময় উপজেলার প্রতিটি বাড়ীতে লেবইর গাছ পাওয়া যেতো এখন আর আগের মত দেখা যায় না। বিদেশী বিভিন্ন ফলের আড়ালে দেশিও ফল লেবইর (অরবরই) যেনো হারিয়ে যাচ্ছে।
আসুন যেনে নেই ফলটির বিভিন্ন নাম সিলেট বিভাগে ও জুড়ী উপজেলায় লেবই বা লেবরই নামে পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর নাম নলতা, লেবইর, ফরফরি, নইল, নোয়েল, রোয়াইল, রয়েল, আলবরই, অরবরি বা অরবরই ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নাম Otaheite gooseberry’, ‘Malay gooseberry’, ‘Tahitian gooseberry’, ‘country gooseberry’, ‘star gooseberry’, ‘West India gooseberry’ BZ¨vw`| Gi Bs‡iwR bvgÒ AieiB Mv‡Qi ‰eÁvwbK bvg hvPhyllanthus acidus, পরিবারভুক্ত।
লেবই বা লেবইর গাছ গুল্ম এবং বৃক্ষের মাঝামাঝি আকারের হয়। যা দুই থেকে নয় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফলটি ব্যাস ০.৫ থেকে ১ সেমি পর্যন্ত হতে পারে, দেখতে হাল্কা হলুদ রং এর এই ফল এর ত্বক খাঁজ কাটা থাকে। টক স্বাদের পাকা লেবই বা লেবইর (অরবরই) ঝাল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ মজা লাগে! এছাড়া এটা দিয়ে আচার, জুস, জেলি, চাটনি ইত্যাদিও তৈরি করা হয়। অনেকে এটা দিয়ে চমতকার টক রান্না করেন বা ভর্তা তৈরি করেন। লেবই বা লেবইর (অরবরই) রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গাছের কচিপাত শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

 


ঐতিহ্য বাহী ফল লেবই বা লেবইর এর রয়েছে অনেক ঔষধি গুনও। *লিভারের অসুখের টনিক বানানো হয় এর বীজ দিয়ে, *পেটের অসুখ ও কৃমিনাশক হিসেবে এর বীজ ব্যবহার করা হয়, *অকাল বার্ধক্য রোধে ও ত্বকের রোগে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, * লেবইর রস চুলের গোড়ায় লাগালে চুল মজবুত হয় ও খুশকি দূর হয়, * মৌসুমি জ্বর প্রতিরোধে ও মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে ফলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আসুন যেনে নেই লেবইর এর পুষ্টিগুণ আর্দ্রতা ৯১.৯ গ্রাম, প্রোটিন ০.১৫৫গ্রাম, ফ্যাট ০.৫২ গ্রাম, ফাইবার ০.৮ গ্রাম, অ্যাশ ০.৫১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫.৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭.৯ মিলিগ্রাম, আয়রণ ৩.২৫ মিলিগ্রাম, পিঙ্গল পদার্থ ০.০১৯ মিলিগ্রাম, থায়ামাইন ০.০২৫মিলিগ্রাম, ঘরধপরহ ০.২৯২মিলিগ্রাম, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ৪.৬ মিলিগ্রাম। (তথ্য অনলাইন)
জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্য বাহী লেবইর ফলের বীজ সংরক্ষন করে গাছের বংশ বিস্তার যদি না করা হয় বৎসতে ফলটি পাওয়া দূষ্কর হয়ে পড়বে। এখনি যদি সরকারি ভাবে লেবইর ফল গাছ সংগ্রহের উদ্যোগ না নেওয়া এই ঐতিহ্য বাহী দেশিও ফলটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকারে সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দেশিও ফলের মধ্যে যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে যেমন ডেউয়া, ডেফল, তৈকর, গোলাপ জাম, আমলকি ও লেবইর বা অরবরই। কৃষকদের কে উৎসাহিত করা জন্য সরকারি নার্সারি “হটিকালচার সেন্টার কুলাউড়ায়” লেবইর গাছের চারা করা হয়েছে। জুড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় চারাগুলো বিতরণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন