ফুল চাষে সম্ভাবনাময় মৌলভীবাজার : নেই কোন উদ্যোক্তা

ডিসেম্বর ৬, ২০১৭, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৭৬ বার পঠিত

ওমর ফারুক নাঈম॥ প্রকৃতিমুখর মৌলভীবাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নেই বাণিজ্যিক চাষাবাদ। ফুল চাষের জন্য জেলার মাটি ও জলবায়ু উপযোগী থাকলেও রয়েছে সুষ্ঠ পরিকল্পনার অভাব। বাজারে ফুলের চাহিদা মেঠাতে ফুল ব্যবসায়ীরা দ্বারস্থ হচ্ছেন রাজধানী সহ অন্যান্য জেলায়। তবে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বলছে, ফুল চাষে উদ্যোক্তার অভাবেই নেয়া যাচ্ছেনা কোন কর্মসূচি।
ফুল শ্রদ্ধা, ভালবাসা, বন্ধুত্ব ও মননশীলতার প্রতীক। জন্মদিন, বিবাহ, গৃহসজ্জা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কিংবা রাজনৈতিক সব আনুষ্ঠানিকতায় ফুলের প্রয়োজন জনপ্রিয় ও সৌন্দর্যমন্ডিত। ফুলের এই ব্যবহারের কারণে ফুল এখন অর্থকরী ফসল। রয়েছে এই জেলায় ফুলের ব্যাপক চাহিদা।
এ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু ফুল চাষের জন্য উপযোগী। ফুলের দোকানগুলোতে ফুল কিনতে প্রতিনিয়তই ভিড় জমান ফুলপ্রেমীরা।
শহরের শাহ মোস্তফা রোডে উর্মি পুষ্পালয়ে ফুল কিনতে আসা শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ বলেন, বন্ধুর জন্মদিনে যাব তাই ফুল কিনতে এসিছি। জন্মদিনে ফুল না দিলে কেমন শূন্য লাগে। তাছাড়া ছোট-বড় সবার কাছেই ফুল প্রিয়। আরেকটি দোকানে আসা কলেজ ছাত্র হাসান বলেন, বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই এখানে এসেছি ফুলের অর্ডার দিতে। বিয়েতে প্রায় বিভিন্ন জাতের ৫ হাজার ফুলের প্রয়োজন। শাহ মোস্তফা পুষ্পালয়ের স্বত্বাধীকারী ফয়সল আহমদ বলেন, আমার দোকানে সব সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফুল কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমান। আমার চাহিদা মত সরবারহ করতে পারিনা।
সময়ের চাহিদার আলোকে ফুলের বাজার ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দিবস ও অনুষ্ঠানের সময় ব্যাপক চাহিদা থাকায় ফুলের ঘাটতি পড়ে। এ সময় ফুলের দামও বেশি থাকে। এখানের বাজারে বিশেষ করে গোলাপ, গাঁদা, চামেলী, জুঁই, শেফালি, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, গাডিওলাসসহ আরো কয়েক জাতের চাহিদা বেশী। তবে মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ু ফুল চাষের জন্য উপযুগী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফুল সৌন্দর্যে জন্য জনপ্রিয়। ফুলের বীজ ও চারা প্রাপ্তির স্থান হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসির হর্টিকালচার সেন্টার ও বেসরকারি নার্সারী।
ফুল চাষ করলে খরচ কম লাভ বেশি। চাষ, পরিচর্যা, সার, সেচ ইত্যাদি অন্য ফসলের চেয়ে কম লাগে। রোগবালাই তেমন হয় না। ঝুঁকিও নেই। উৎপাদনে সময় লাগে মাত্র ৬০-৭০ দিন। অধিকাংশ ফুলের বীজ, চারা, কলম বা কন্দ অশ্বিন থেকে অগ্রাহায়ন পর্যন্ত রোপণের উপযুক্ত সময়। উঁচু দো-আঁশ মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী। শীত মৌসুমেও অনেক রকম ফুলের চাষ করা হয়।
কিন্তু ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকা স্বত্বে ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে নেই ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। জেলার কোথাও নেই একটিও বাণিজ্যিক ফুল বাগান। পরিকল্পিতভাবে চাষ না হওয়ায় এখানকার দোকানীরা রাজধানীসহ অন্য জেলা থেকে চড়া দামে কিনে আনতে হচ্ছে ফুল। যারফলে ফুল কিনতে এসে ক্রেতাদেরকেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
ফুল ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম চৌধূরী বলেন, মৌলভীবাজারে ফুলের চাহিদা অনেক বেশী। আমরা ফুল চুয়াডঙ্গা,যশোর অথবা ঢাকা থেকে ফুল সংগ্রহ করে থাকি। ফুল ওইখান থেকে আনতে আমাদেও খরচ অনেক বেশী হয়ে যায়। ঢাকা থেকে যদি ২শত টাকায় কিনে আনলে  মৌলভীবাজারে সেটা বিক্রি করতে হচ্ছে ৫শত টাকায়। এখানে খরচ বেশী থাকার কারণে ক্রেতারা ভূগান্তির শিকার হচ্ছেন। মৌলভীবাজারে যদি ফুল চাষের উদ্যোগ নেয়া হয় তা হলে আমরা সহজেই ফুল পাব এবং কম মূল্যে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহাজাহান বলেন, মৌলভীবাজারে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে না। তবে এজেলায় কেউ যদি ফুল চাষ করতে চায় তাহলে চাষ সম্ভব। অনেকে ভাবেন এখানের মাটি উপযুগী নয়। এটা ভূল ধারণা। মাটিকে ফুল চাষের জন্য তৈরি করলে চাষ সম্ভব হবে। কোন ব্যাক্তি যদি চান চাষ করতে তাহলে কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
ফুলের সৌরভ যেমন মানুষকে বিমোহিত করে তেমনি এর সৌন্দর্য পরিবেশকেও করে তোলে আকর্ষণীয়। মৌলভীবাজারে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করা যাবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন