বড়লেখায় বর্গা চাষের নামে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী কন্যার ভুমি জবরদখল : ১৭ বছর পর উদ্ধার

মার্চ ৩, ২০১৮, ১১:২২ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ বড়লেখার বীর মুক্তিযোদ্ধা জমির উদ্দিনের বিধবা স্ত্রীর নামে সরকারী বন্দোবস্তকৃত ৫০ শতাংশ কৃষি খাস জমি বর্গা চাষের নামে প্রতিবেশি ইসমাইল আলী আত্মসাতের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জবর দখলের ১৭ বছর পর ১ মার্চ বৃহস্পতিবার উপজেলা ভুমি প্রশাসন ও থানা পুলিশ অসহায় বিধবার শেষ সম্ভল উক্ত ভুমি উদ্ধার করে দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাঠালতলী উত্তরভাগ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জমির উদ্দিন ১৯৮৯ সালে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুতে ৩ শিশু কন্যা নিয়ে বিধবা রাহেলা বেগম অসহায় হয়ে পড়েন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তৎকালিন সরকার তাকে জে.এল নং ১০৩, কাঠালতলী মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৫২৬২, ৫২৬১ এবং ৫২৫৯ নং দাগে সর্বমোট ৫০ শতাংশ খাস কৃষি জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন। ১৯৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষে তৎকালিন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক জি.কে.এম নুরুল আমিন মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী রাহেলা বেগমের নামে বন্দোবস্তকৃত ভুমির সাব-কাবালা সম্পাদন করেন। বিধবা রাহেলা বেগম বন্দোবস্তকৃত ভুমি বর্গা চাষের জন্য প্রতিবেশি ইসমাইল আলীকে প্রদান করেন। ২০০২ সাল পর্যন্ত বর্গা চাষী ইসমাইল আলী তাকে ফসলের ভাগ দিলেও পরবর্তীতে আর দেননি। রাহেলা বেগমের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি উক্ত ভুমি আত্মসাতের পায়তারা চালান।
মৃত মুক্তিযোদ্ধা জমির উদ্দিনের বিধবা স্ত্রী রাহেলা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন শিশু কন্যা সন্তান নিয়ে তিনি যখন দিশেহারা তখনই সরকার তাকে ৫০ শতাংশ কৃষি জমি লীজ দেন। কিন্তু লীজ প্রদানের ২ বছর পর থেকে বর্গাচাষী ইসমাইল তা জবর দখল করে রেখেছে। আমার কোন ছেলে সন্তান নাই, বৃদ্ধ মহিলা। জবর দখলের ১৭ বছর পর এসি ল্যান্ড ও থানায় অভিযোগ করি। গত বৃহস্পতিবার প্রশাসন ও পুলিশ উক্ত জমি উদ্ধার করে দিয়েছে। ইসমাইল আলী পুনরায় এ ভুমি জবর দখলের জন্য আমাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
১৭ বছর ধরে বিধবার খাস জমি দখলে রাখার সত্যতা স্বীকার ও হুমকি ধমকির অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাইল আলী জানান, তিনি এ জমি ক্রয় করেছেন। ভুমি প্রশাসনের কর্মকর্তা ও থানা পুলিশ তাকে অনুরোধ করায় তিনি দখল ছেড়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন।
ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুল মোক্তাদির সওদাগর জানান, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার কাঠালতলীর মৃত মুক্তিযোদ্ধা জমির উদ্দিনের বিধবা স্ত্রীকে খাস জমি বন্দোবস্তের দলিল হস্তান্তর করেন। এরপর বেদখল হয়ে যায়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের মাধ্যমে ভুমিটি উদ্ধার হওয়ায় নিরীহ মহিলার মাথা গুজার ব্যবস্থা হলো।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানান, বন্দোবস্তকৃত কোন খাস জমি হস্তান্তরযোগ্য নয়। মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী রাহেলা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার নামে বন্দোবস্তকৃত ৫০ শতাংশ ভুমির সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”